অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, মিকি আর্থার, মাইক হেসনরা বাংলাদেশ দলের কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। চন্দিকা হাথুরুসিংহেরও ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু রাসেল ডমিঙ্গো বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদের থেকে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে তার মন দিয়ে কাজ করার আগ্রহ এগিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতিও তার কাজ করার আগ্রহ দেখে খুশি হয়েছেন। জানান, ডমিঙ্গো বাংলাদেশ দলের সঙ্গে আগামী দু’বছর বিশ্রাম না নিয়েই কাজ করতে চান। তিনি বাংলাদেশ দল নিয়ে বিসিবিকে পরিকল্পনা দিয়েছেন। বোর্ডের তা ভালো লেগেছে। ডমিঙ্গো জানিয়েছেন, তিনি শুধু জাতীয় দল নিয়ে নয়, জাতীয় দলের পাইপলাইন নিয়ে কাজ করতে চান। তার বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে। সেটা এখানে প্রয়োগ করতে চান।

সাকিবদের নতুন কোচ ডমিঙ্গো বলেন, ‘অবশ্যই আমার প্রথম কাজ জাতীয় দল নিয়ে। তবে আমি জাতীয় দলের আগের ধাপে যারা আছে তাদের নিয়েও কাজ করতে চাই। ওই পর্যায়ে যারা থাকে তারাই পরবর্তীতে জাতীয় দলে আসে। সুতরাং তাদের প্রতি আগ্রহ না দেখিয়ে উপায় নেই। খেলোয়াড়রা যেখান থেকে উঠে আসছে সেখানে সামান্য অবদান রাখতে পারলে আশা করছি দল সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আমার বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত কোচিং করিয়েছি। আমার তাই পাইপলাইন সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে।’

হাইপারফরম্যান্স কোচদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করার কথা বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই কোচ। বলেছেন, বাংলাদেশ দলের দারুণ কিছু ক্রিকেটার আছে। তাদের সঙ্গে কিছু তরুণ ক্রিকেটার তুলে আনা দরকার। যারা সিনিয়র ক্রিকেটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তাদেরও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে। কারণ প্রয়োজনে তারাই এগিয়ে আসবে।
শ্রীলংকা সিরিজে দলের খারাপ করা নিয়ে ভাবছেন না নতুন কোচ। তিনি বরং বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা দেখে উচ্ছ্বসিত। কিছু ম্যাচ বাংলাদেশ খুব কাছে গিয়ে হেরেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রান আউট মিসের কথাও বলেন ডমিঙ্গো। এখন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ভুলে সামনে তাকানো উচিত বলে উল্লেখ করেন দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ।

তিনি বলেন, ‘শেষ পাঁচ-ছয় বছরে ক্রিকেটে সবচেয়ে উন্নতি করা দেশ বাংলাদেশ। দেশের ক্রিকেট ভক্তরা অসাধারণ। বোর্ডের সঙ্গে সাক্ষাতে নিশ্চয় কিছু পরিকল্পনা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়ে তারা খুবই আগ্রহর সঙ্গে কাজ করছেন। নতুন অনেক ক্রিকেটার উঠে আসছে। আমাকে যা সবচেয়ে উচ্ছ্বসিত করছে তা হলো, বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি হতে যা দরকার সবই ঠিকঠাক আছে বাংলাদেশের।’ দক্ষিণ আফ্রিকার নিল ম্যাকেঞ্জি, রায়ান কুক এবং চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্টের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছেন বলে জানান তিনি।