পৃথিবীর ফুসফুস হিসেবে পরিচিত আমাজনে অগ্নিকাণ্ড বিশ্বব্যাপী পুঁজিপতিদের পরিবেশকে মুনাফার বলি করার ফলাফল হিসেবে মন্তব্য করেছেন পরিবেশবাদী ও নাগরিকসমাজের প্রতিনিধিরা ৷ বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনকেও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তাঁরা সুন্দরবনের পাশে নির্মাণাধীন রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়েছেন৷




আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক নাগরিক তাঁরা এসব দাবি জানান ৷ ‘আমাজন থেকে সুন্দরবন, পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার হোন’ শিরোনামে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনসহ (বাপা) পরিবেশবাদী বেশ কয়েকটি সংগঠন যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে৷




সমাবেশে বাপার নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহীন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমাজন ধুঁকধুঁক করে জ্বলছে ৷ এটি বিশ্বব্যাপী পুঁজিপতিদের পরিবেশকে মুনাফার বলি করার চিন্তার ফলাফল ৷ একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে সুন্দরবনের ক্ষেত্রেও ৷ সুন্দরবনকেও মুনাফার বলি করা হচ্ছে ৷ ব্রাজিল সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বনভূমি উজাড় করে দেওয়া ৷ উন্নয়নকাঠামোর দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষের স্বার্থের পাশাপাশি এর সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাবটাও দেখতে হবে ৷ তা নাহলে ওই উন্নয়ন মানুষের স্বার্থে হবে না। হবে মুনাফার স্বার্থে৷




রুহীন হোসেন প্রিন্স অভিযোগ করে বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের ফুসফুস ৷ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে সেখানে মুনাফার স্বার্থ দেখা হচ্ছে ৷ বিভিন্ন চাপের কারণে সরকার এভাবে জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে ৷ দেশের স্বার্থে সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করতে হবে৷




ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক এম আবু সাঈদ বলেন, যে আমাজন পৃথিবীর শতকরা ২৫ ভাগ অক্সিজেন সরবরাহ করে, তা আজ ধ্বংসের মুখে ৷ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট আমেরিকার দালাল ৷ বনভূমি উজাড় করে তাঁরা গোচারণভূমি তৈরি করতে চাইছেন ৷ এর কারণ তাদের মাংস রপ্তানি করতে হয় ৷ সয়াবিন চাষের জন্য ব্রাজিল চীনের সঙ্গে যুক্তিবদ্ধও হয়েছে ৷ এসব কারণে অনেকবার বনভূমিতে আগুন লাগানো হয়েছে ৷ ভূমিদস্যুরা শুধু ব্রাজিলের নয়, এর ওপর পুঁজিপতিদের লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে ৷ বাংলাদেশের সুন্দরবনের ওপরও পুঁজিপতিদের লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে ৷ আমাজনের মতো রামপালের জন্য বনভূমি উজাড়ের সুযোগ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে ৷ পরিবেশের ওপর পুঁজিপতিদের লোলুপ দৃষ্টি প্রতিরোধের আহ্বান জানান তিনি৷




সমাবেশে অন্যদের মধ্যে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহম্মেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ারুল আলম খান, বাপার যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, প্রকৃতি ও নগর সৌন্দর্যবিদ রাফেয়া আবেদীন, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ইবনুল সাঈদ রানা প্রমুখ বক্তব্য দেন ৷ বাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হক খান সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন৷

সমাবেশের আয়োজক সংগঠনগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি, গ্রিন ভয়েস, আদি ঢাকাবাসী ফোরাম, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগ প্রভৃতি ৷