কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ দুটির মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর এমন উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে গোটা বিশ্বকে ভুগতে হবে।




শুধু তা-ই নয়, নরেন্দ্র মোদি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে তার নিবন্ধে সরাসরি আক্রমণ করেছেন ইমরান খান।

মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়ে গুজরাট দাঙ্গা, ভারতে ভিন্নধর্মীদের প্রতি অসহিষ্ণুতার উদাহরণ দিয়ে ইমরান খানের অভিযোগ, আমরা ‘নতুন ভারতের’ বিরোধিতা করছি, যার নেতৃত্বে রয়েছে এমন একটা দল, যারা আরএসএস থেকে গড়ে উঠেছে।




মার্কিন সংবাদপত্রে ইমরানের নিবন্ধের শিরোনাম, কাশ্মীর এবং তার মানুষের উপরে ভারতের নিগ্রহ বন্ধ করতে গোটা বিশ্ব যদি কিছুই না-করে, দু’টি পরমাণু শক্তিধর দেশ সরাসরি সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি হবে।




ইমরান খানের দাবি, গত বছরের অগস্টে কুর্সিতে বসেই দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু পাকিস্তান যখন শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য সক্রিয় হচ্ছে, ভারত তখন ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সে (এফএটিএফ) পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করতে উঠে-পড়ে লেগেছে।




পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের এমন সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতি। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রায় পাকিস্তানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, পরমাণু অস্ত্রের ক্ষেত্রে ভারতের ‘প্রথমে ব্যবহার নয়’ নীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে পরিস্থিতির উপরে।

ইসলামাবাদের কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউয়ের জমায়েতে পতাকা তুলে ইমরান বলেছেন, ভারত যদি কাশ্মীরে সাজানো সংঘর্ষ (ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন) করে, তাহলে পাকিস্তান যোগ্য জবাব দেবে।

কাশ্মিরি মেয়ে বিয়ে করে মাসুল গুনছেন বিহারের দুই ভাই
কাশ্মিরের একই পরিবারের দুই মেয়েকে বিয়ে করে চরম মাসুল গুনছেন ভারতের বিহার রাজ্যের দুই ভাই। মেয়ে দুটির পরিবার বিয়ে মেনে না নিয়ে পুলিশে অভিযোগ করেন। বিয়ের পরে ২৫ দিনও কাটল না, তাদের চারজনকেই আটক করা হয়।




বিহারের সুপৌলের রামবিসনপুর গ্রামের বাসিন্দা দুই ভাই মোহাম্মদ তবরেজ ও মোহাম্মদ পারওয়েজ চার বছর আগে কাশ্মিরে গিয়ে ছিলেন রাজমিস্ত্রির কাজ করতে। সেখানকার রম্বন এলাকায় একই পরিবারের দুই বোনের প্রেমে পড়েন তারা।




৩৭০ ধারা রদ হওয়ায় তারা অবিলম্বে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তারা বিয়ের পরে গ্রামে ফিরে আসেন সস্ত্রীক। কিন্তু এই বিয়ে মেনে নেয়নি মেয়ে দুটির পরিবার। মেয়ে দুটির বাবা অপহরণের অভিযোগ নিয়ে কাশ্মিরের নাগমা বনিহল থানার পুলিশের দারস্থ হন। অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে পুলিশ।




কাশ্মির পুলিশের একটি দল সাব-ইন্সপেক্টর সমীরের নেতৃত্বে বুধবার রামবিসনপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। পরে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাবরেজ ও পারওয়েজকে আটক করে। বুধবারই তাদের চারজনকে সুপৌলের আদালতে তোলা হয়।

আদালতে দুই বোন জানান, তারা প্রাপ্তবয়স্ক। নিজ ইচ্ছেতেই তারা তাবরেজ ও পারওয়েজকে বিবাহ করেছে।

তবরেজ ও পারওয়েজের পরিবার জানায়, কাশ্মিরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে তারা ওই দুই বোনের প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণেই এতদিন বিয়ে করতে পারেননি। ৩৭০ ধারা কেন্দ্র প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় তারা। তবরেজ ও পারওয়েজ বিশ্বাস করেন, অচিরেই তাদের জটিলতা দূর হয়ে যাবে।

সমীর জানান, ‘‘বিষয়টি এখন কোর্টের অধীনে। সমস্তটা শুনে আদালত পুলিশকে এই চারজনকেই ট্রানজিট রিমান্ডে কাশ্মির নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। কাশ্মিরের আদালত এই চারজনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।’’