জম্মু-কাশ্মীরে পাকিস্তানি সেনাদের হস্তক্ষেপ চায় ভূস্বর্গখ্যাত এ উপত্যকার মুক্তিকামীরা। কাশ্মীরের এক স্বাধীনতাকামী সংগঠনের কমান্ডার সৈয়দ সালাহউদ্দিন বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ার পর এখানে যেহেতু জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী নিয়োগ দেয়া হয়নি, সেহেতু পাকিস্তানের উচিত সেখানে সেনা পাঠানো।

রোববার আজাদ কাশ্মীরের মুজাফফারাবাদে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন ডজনখানেক স্বাধীনতাকামী সংগঠনের জোটপ্রধান সালাউদ্দিন। এদিকে কাশ্মীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ পোস্টার। শেষ বুলেট পর্যন্ত সেনাদের লড়াইয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে এতে। যুদ্ধ পোস্টার ছড়ানোর ঘটনায় পাকিস্তানের দিকেই অভিযোগের তীর ছুড়ছে ভারত।

উত্তপ্ত এ পরিস্থিতিতে মালদ্বীপে চতুর্থ দক্ষিণ এশিয়া স্পিকার সম্মেলনে কাশ্মীর নিয়ে বাকযুদ্ধে জড়িয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা। খবর রয়টার্স ও ইন্ডিয়া টুডের।

গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারত সরকার। উপত্যকাটিকে দুই ভাগ ভাগ করে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। কাশ্মীরের মুক্তিকামী নেতা সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক ক্ষমতাধর মুসলিম দেশ পাকিস্তানের উচিত কাশ্মীরের এ দুর্দিনে নির্যাতিত মুসলিম ভাইবোনদের পাশে দাঁড়ানো।’

পাক সেনাদের সহায়তা কামনা করে তিনি আরও বলেন, সংকটময় এ পরিস্থিতিতে কেবল কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন কোনো কাজে আসছে না।’ জম্মু-কাশ্মীরের বাদগ্রাম শহরে জন্ম হলেও ২০১৭ সালে ওয়াশিংটন সালাহউদ্দিনকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের তালিকাভুক্ত করার পর থেকে তিনি আজাদ কাশ্মীরে চলে যান।

উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধের পোস্টার। এতে লেখা, ‘কাশ্মীরের জন্য শেষ বুলেট পর্যন্ত লড়বে প্রত্যেক সেনা।’ ৩৭০ ধারা বাতিলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় রাস্তায় নামার দাবি করে পোস্টার সাঁটা হয়েছে শ্রীনগরের অলিগলিতে।

পোস্টারে ছবি রয়েছে পাক সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আসিফ গফুরের। পোস্টারে উপত্যকায় চলতে থাকা কারফিউয়ের বিরুদ্ধেও সওয়াল করা হয়েছে। কে বা কারা পোস্টার প্রকাশ করেছে জানা যায়নি। তবে এর জন্য পাকিস্তানকেই দোষারোপ করছে ভারত। যদিও পোস্টার সাঁটাকে কেন্দ্র করে এখনও কোনো উত্তেজনা হয়নি। তবে সতর্ক রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

এসব উত্তেজনার মধ্যে রোববার মালদ্বীপের পার্লামেন্টে স্পিকার সম্মেলনে কাশ্মীর নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছেন ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা। সেখানে জম্মু ও কাশ্মীরে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদার বিষয়টি তুলে ধরেন পাকিস্তানের স্পিকার কাজিম সুরি। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচারের কথা ভুলে গেলে চলবে না।’

তারপরেই পয়েন্ট অব অর্ডার তোলা হয় ভারতের পক্ষ থেকে। কঠোরভাবে তা খণ্ডন করেন রাজ্যসভার ডেপুটি স্পিকার হরিবংশ নারায়ণ সিং। তিনি বলেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে যেভাবে এখানে তোলা হচ্ছে তার তীব্র বিরোধিতা করছি। এটি এ সম্মেলনের অন্তর্ভুক্ত নয়, এমন বিষয়কে এখানে তুলে ধরে মঞ্চটিকে রাজনৈতিক করে তোলার চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ করছি।’ তবে শুধু রক্ষণ নয়, আক্রমণেও যান হরিবংশ।

বাংকার বানাচ্ছে পাকিস্তান : উত্তেজনার মধ্যেই কার্গিলে নতুন করে বাংকার তৈরি করছে পাক সেনারা। ভারতীয় দৈনিক ইন্ডিয়া টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে বালতোরো সেক্টরের স্কারদু এলাকায় বেশ কয়েকটি নতুন বাংকার তৈরি করছে পাকিস্তান।

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের এ এলাকা ঠিক কার্গিলের উল্টোদিকে অবস্থিত। এর মধ্যে ছয়টি বাংকার প্রায় তৈরি হয়ে গেছে। কয়েকটি বাংকার ১০ ফুট বাই ১২ ফুটের এবং অন্য বাংকারগুলো ২০ ফুট বাই ১২ ফুট। যুদ্ধ শুরু হলে বাংকারগুলো কমান্ড পোস্ট বা অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করার জন্যও ব্যবহার করা হতে পারে।

১২৫ গ্রাম ওজনের পারমাণবিক বোমার হুমকি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের ১২৫-২৫০ গ্রাম ওজনের পারমাণবিক বোমা ভারতের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের রেলওয়েমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ। কাশ্মীর নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন হুমকি দিয়েছেন তিনি।
রোববার পাঞ্জাব প্রদেশে নানকানা সাহিব এলাকায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ইমরান খান সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী রশিদ বলেন, পাকিস্তানের ছোট পারমাণবিক বোমা রয়েছে ১২৫ ও ২৫০ গ্রাম ওজনের; যেগুলো ভারতের লক্ষ্য বস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহার হতে পারে। খবর ইন্ডিয়া ট্যুডের।এর আগে পাকিস্তানি এ মন্ত্রী বলেছিলেন, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হবে। এমন মন্তব্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।

ভারত চলতি মাসের ৫ আগস্ট দেশটির সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে। ফলে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হয়। ওই অঞ্চলটিকে দুটি রাজ্যে বিভক্ত করেছে। এরপর থেকে কার্যত জম্মু-কাশ্মীর ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে উপত্যকাটিতে ৫০ হাজারের বেশি সেনা ও কর্মকর্তা মোতায়েন করে ভারত। হিমালয় ঘেরা অঞ্চলটিতে কারফিউ জারি করে। আটক করা হয় মুসলিম নেতাদের।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে নিয়মিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। গ্রেফতার করা হয়েছে কয়েক হাজার স্বাধীনতাকামীকে।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কাশ্মীর অঞ্চলে ইন্টারনেট, টেলিফোন ও মোবাইল পরিসেবা বন্ধ করে দেয়। ওই অঞ্চলটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন করে দেয়া হয়।