ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন​কে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা নুরুন্নবী চৌধুরী। রবিবার সন্ধ্যায় মোবাইলে ইত্তেফাককে তিনি এ কথা জানান।




শোভনের বাবা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
তিনি বলেন, আমার ছেলে শোভন এরকম খারাপ ছিলো না। সে সাদাসিধে ও অত্যন্ত সরল প্রকৃতির ছিলো। আর এ কারণেই তাকে একটি চক্রের বলির পাঠা হতে হলো।




শোভনের বাবা আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে। তার প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। তিনি নিজেই শোভনকে পছন্দ করে ছাত্রলীগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আবার নিজেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তার সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে।




জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে অর্থ দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করে জানতে পেরেছি, ঘটনাস্থলে ঐ দিন শোভন সেখানে ছিলো না। রব্বানীরা তাকে পরে ডেকে নিয়ে যায়। শোভন উদ্ভূত পরিস্থিতি মীমাংসার জন্য সরল বিশ্বাসে সেখানে গিয়েছিলো। অথচ অর্থ কেলেঙ্কারিতে তাকে ফাঁসানো হলো।
তিনি বলেন, আওয়ামী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসাবে এ কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি আমাদের সামান্যতম শ্রদ্ধা কমবে না।




এবার ছাত্রলীগের নেতৃত্বে জয়-লেখক
সমালোচনার মুখে থাকা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দলের কার্যনির্বাহী সংসদের প্রায় সব সদস্যই উপস্থিত ছিলেন।




বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীকে বাদ দিয়ে তাদের জায়গায় সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত তারা সংগঠনের দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান তিনি।




এর আগে, গত বছর ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার পর ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিতে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সেদিন রাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের নাম ঘোষণা করেন। তারপর দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা থাকলেও প্রায় ১০ মাস পর ১৩ মে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ছাত্রলীগের একটি অংশ। পদবঞ্চিতরা সেসময় অনশন করে। পরে শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে তারা শান্ত হন।