‘উচ্চ আদর্শ ও সাদামাটা জীবনযাপন, এই হোক তোমাদের আদর্শ’ এমনই উক্তিটি ছাত্রলীগের উদ্দেশে অনেকবার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত নেতাদের জীবন হোক আর দশজনের মতো যেন তারা সাধারণ মানুষদের সঙ্গে মিশতে পারে।




তাদের কষ্ট বুঝতে পারে। কিন্তু পদ পাওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর জীবন হয়ে ওঠে বিলাসবহুল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলে থেকে সাধারণ জীবনযাপনেই অভ্যস্ত ছিলেন।




কিন্তু বাস্তবতা ঠিক তার উল্টো। ছাত্রলীগ থেকে সদ্য পদ হারানো সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর জীবনযাপনে পাওয়া যায় ভিন্ন চিত্র। ডেইলি স্টার’র এক প্রতিবেদনে উঠে আসে তাদের বিলাস বহুল জীবনযাপনের চিত্র।




ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)’র হলে থেকেই সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। কিন্তু, পদ পাওয়ার পরপরই তারা রাজধানীর কাঁঠালবাগান ও হাতিরপুলে যথাক্রমে ৭০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকার ভাড়া ফ্লাটে জীবনযাপন শুরু করেন। যদিও ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের কোনো চাকরি অথবা ব্যবসায়ে জড়িত থাকার সুযোগ ছিলো না।




এ বিষয়ে রাব্বানীর দাবি করেন, অবস্থান বিবেচনায় অবিশ্বাস্য মূল্যের হওয়া সত্ত্বেও হাতিরপুলের ২ হাজার ৬শ’ বর্গফুটের ওই ফ্লাট তিনি ভাড়া নিয়েছিলেন মাত্র ৪০ হাজার টাকায়। ২০১৫ সাল থেকে বাবা এবং ছোটভাই তার বাসাভাড়া দিয়ে আসছেন বলেও জানান তিনি।




গত বছর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরদিন থেকে রাব্বানী টয়োটা কোম্পানির নোয়া মডেলের একটি মাইক্রোবাস ব্যবহার করতে শুরু করেন।
তিনি কীভাবে এই গাড়ির মালিক হলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে রাব্বানি বলেন, ‘মাইক্রোবাসের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়নি, কিস্তির টাকা বকেয়া রয়েছে।’ তবে সেই কিস্তির টাকা তিনি কী করে পরিশোধ করেন, তা জানাতে চাননি।




শোভনেরও এরকম একটি গাড়ি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকাকালীন ক্যাম্পাসের কোথাও যেতে হলে এই দু’জন অন্য সবার মতোই রিকশা ব্যবহার করতেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) রাব্বানী গতমাসে ডাকসু ভবনে তার নিজ কক্ষে একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) লাগিয়েছেন।




এ বিষয়ে রাব্বানীর দাবি, এক শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে উপহার হিসেবে এসি লাগিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে শোভন গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেট থেকে ঢাকায় ফেরার পথে অনেক নেতাকর্মী নিয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। যা নিয়ে অনেক সমালোচনাও হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।