পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ‘কাশ্মীর ইস্যু’টি তিনি এভাবে উপস্থাপন করবেন, যা ‘ইতিপূর্বে অন্য কেউ করেননি’। তিনি আরও বলেন, ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা পুনর্বহাল ও সেখানে জারি করা কারফিউ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।




ডন অনলাইনের খবরে এ কথা জানানো হয়। গতকাল বুধবার পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ইন্টিগ্রেটেড ট্রানজিট ট্রেড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধনীতে ইমরান খান এসব কথা বলেন।




পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানের প্রতি ভারত সরকারের নীতি হলো ঘৃণার নীতি। মুসলমানদের ঘৃণা করার এই নীতি হলো দেশটির রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নীতি। কাজেই ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে সরকার কারফিউ না তুলে নিলে এবং সংবিধানের বাতিল করা ৩৭০ ধারা পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।




কাশ্মীরিদের জন্য পাকিস্তানের কেউ যুদ্ধে যেতে চাইলে তিনি বিষয়টি কীভাবে দেখবেন, এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানের কেউ কাশ্মীরের জন্য যুদ্ধে যেতে চাইলে কিংবা কাশ্মীরে জিহাদে গেলে তা কাশ্মীরিদের প্রতি অত্যন্ত অবিচার করা হবে এবং এ ধরনের পদক্ষেপ কাশ্মীরিদের চোখে বিদ্বেষমূলক বলেই বিবেচিত হবে।




গত ৫ আগস্ট বিজেপিশাসিত কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাসংবলিত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট ৩৫এ ধারা বাতিল, কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করা এবং কাশ্মীরের জনগণের ওপর কেন্দ্রীয় শাসনের নামে প্রত্যক্ষ দখলদারির শাসন চাপিয়ে দেয়।




দুই দিনের সৌদি সফরে ইমরান খান
দুই দিনের সৌদি আরব সফরে বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদ ছেড়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনকে সামনে রেখে তিনি এই সফরে গেছেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে।-খবর ডন অনলাইনের




এ সময়ে অধিকৃত কাশ্মীরের অস্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন। গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের সাংবিধানিক বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নেয়ার ঘোষণা দেয় ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী সরকার।




এরপর থেকে উপত্যকাটিতে ভারতীয় সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ ও যোগাযোগ অচলাবস্থা চলছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইস্যুটি নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।




কাশ্মীর উপত্যকাটির পরিস্তিস্থি নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি সৌদি সফরে গিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়ে আসবেন ইমরান খান।




সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপের ফলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান সফরে যান। এসময় তার ইমরান খান ও দেশটির সেনাপ্রধানের সঙ্গে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।