আসামের নাগরিকপঞ্জির বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,‘ভারতের মন্ত্রী ও নেতারা যখন বলেন, আসাম থেকে বের করে দেওয়া হবে। তখন আমরা উদ্বিগ্ন হই। উদ্বিগ্ন হই, কারণ- আমাদের কোনো মানুষ ভারতে গেছে বলে আমরা মনে করি না। আমরা মনে করি, এটা একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কথা। যা দিয়ে বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের একটা চাপ সৃষ্টি হতে পারে।’




বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।




মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে প্রধানমন্ত্রী ভারতে গেছেন। আমরা সবসময় যেমন আশা করে থাকি, ভারতের সাথে বাংলাদেশের এই সরকারের নাকি পর্বতের শৃঙ্গের মতো সম্পর্ক। কিন্তু বারবার আমরা হতাশ হই। যতবার যান, এসে দেখি আমাদের যে মূল সমস্যাগুলো রয়েছে- সেগুলো সমস্যার সমাধান হয় না। কিন্তু আমরা দিয়ে আসি একেবারে উজাড় করে।’




তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমান্তে হত্যার সমস্যার সমাধান হয় না, আমাদের তিস্তার পানির সমস্যার সমাধান হয় না, ফারাক্কার বাঁধ খুলে দিলে বন্যা হয়ে যায়- এই সমস্যার সমাধান হয় না, বাণিজ্যের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা হয়েছে-সেটার সমাধান হয় না।’




তবে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে সুখবর পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে জনগণ আশা করবে, জনগণের যে প্রত্যাশা- তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পাবে। অবশ্যই যেন বাংলাদেশ সুখবর পায়, তা আমরা আশা করব। আমরা আশা করব, আমাদের সীমান্তে যাতে হত্যা বন্ধ হয়।




মির্জা ফখরুল বলেন, ‌এই সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। এটাই তাদের ইতিহাস। তাদের চরিত্রের মধ্যে গণতান্ত্রিকতা বলতে কিছু নেই। ’৭৫ সালে বাকশাল সৃষ্টির মাধ্যমে একদলীয় শাসন চালু করতে চেয়েছিল। আজ কৌশল পাল্টে গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে।




তিনি বলেন, এই সমস্যা শুধু বিএনপির নয়, শুধু পেশাজীবীদের নয়। এই সমস্যা সারা বাংলাদেশের মানুষের। যে জন্য ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছিলাম, যার মূলমন্ত্রই ছিল গণতন্ত্র, সেই গণতন্ত্রকেই তারা ব্যাহত করছে।




বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্যাসিনো নিয়ে খুব লাফালাফি হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বড় সম্পদ লুট হয়ে গেছে। সেটি হলো ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার। স্বাধীন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার আওয়ামী লীগ লুট করে নিয়ে গেছে। সেজন্যই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।