আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্তির পর ফেসবুক লাইভে এসে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফেনীর আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী। বলেছেন, আমার পদের বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের জানার প্রয়োজন নেই। আমাকে উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা নেত্রীর এখতিয়ার। আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, আমাকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্তি করেছেন নেত্রী।




বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর থেকে ফেসবুকে লাইভে এসে জয়নালী হাজারী বলেন, আমি খুবই অসুস্থ, দুর্বল অনুভব করছি। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তবুও একান্তই না বলে পারছি না বলে সংক্ষিপ্ত একটা লাইভে আসা। ইতিমধ্যে আমাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য করেছেন।




এটা গতকাল সব জায়গায় নিউজ করা হয়েছে। রেডিও-টেলিভিশন সব জায়গায়। এটা নিয়ে আজকে আবার বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা হচ্ছে। সেই বিভ্রান্তি কিছুটা হলেও দূর করার জন্য আমার লাইভে আসা।




হাজারী বলেন, যেদিন আমি এই নেত্রীর হাত থেকে ৪০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছিলাম, সেদিনই আমি নেত্রীকে বলেছিলাম, আপনি বলেছেন আপনি আমাকে কখনো দল থেকে বহিষ্কার করেন নাই। তাহলে দলে আমার অবস্থান কোথায়? তখনই তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন অবস্থান ঠিক হয়ে যাবে আরো দু-একটি যা কথা বলেছিলাম সেটিও তিনি মেনে নিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করেছেন।




তার উপদেষ্টা পরিষদে আন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে জয়নাল হাজারী বলেন, বিভ্রান্তির কারণ হচ্ছে আজকে আমাদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব, উনি সচিবালয়ে একটা সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন, সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, হাজারীকে উপদেষ্টা কমিটির সদস্য করার ব্যাপারটা কি আমি জানি না।




আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই কারণে যে, রাজনীতি করতে নাকি মিথ্যা কথা বলতে হয়, কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো মিথ্যা কথা বলেন নাই। তিনি বলেছেন, আমি কিছু জানি না, আমার সঙ্গে আলোচনা হয় নাই। ১০০ পারসেন্ট সত্য। এটা নেত্রী কারো সাথে আলোচনা করেন নাই, কারণ উপদেষ্টা কমিটিতে রাখা অথবা করা একান্তভাবে তার নিজস্ব এখতিয়ার। গতবার সম্মেলনে নেত্রীকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটা অনেকটা নিয়োগ, এটা কোন ভোটের মাধ্যমে কাউন্সিলের মাধ্যমে হওয়ার বিষয় নয়। আমার আগেও যাদের উপদেষ্টা কমিটিতে এনেছেন সেটাও কারো সাথে আলোচনা করে আনেননি। তিনি চিঠি লিখে আওয়ামী লীগ অফিসে পাঠিয়ে দেন সেখান থেকে চলে যায় মিডিয়াতে।




জয়নাল হাজারী বলেন, যেখানে নেত্রী বলেছেন আমাকে বহিষ্কার করা হয়নি। সেখানে কিছু কুচক্রী মহল বলছে আমার বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। এটা নেত্রীর এখতিয়ার। নেত্রীর এখতিয়ারে নেত্রী যত কিছু করে তার সবকিছু ওবায়দুল কাদেরকে জানতে হবে সেটা নয়। আমি ওবায়দুল কাদেরকে ধন্যবাদ জানাই তিনি মিথ্যা বলেননি।




মানুষের দোয়া চেয়ে জয়নাল হাজারী বলেন, দোয়াতে যেকোনো কিছু হতে পারে। এটা তো আল্লাহর রহমত উপদেষ্টা কমিটিতে নিয়ে এলো কত নিচে থেকে। ২০ বছর থেকে বলা হলো যে আমি বহিষ্কার সেখানে হঠাৎ রাত গতরাত ৯.০০ টার সময় শোনা গেল আমি সর্বোচ্চ সংস্থা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটিতে এসেছি। আমাদের ‘ক্যাসিনোর’ লোকেরা, তারা আগেরদিন বিশাল গডফাদার, পরদিন দেখা গেল তারা পালাচ্ছে। কে কখন কোন মুহূর্তে উপরে উঠে যায়, কে কখন নিচে নামে এটার কোনো ঠিক নাই।




একই লাইভে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন জয়নাল হাজারী। বলেন, এক সময়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন নাসিমের অবস্থা এখন ভালো না। আলাউদ্দীন তুমি বোঝো তোমাকে ছাড়া সর্বনাশ করেছে, নমিনেশন পেতে দেয়নি, আমাকে যারা সর্বনাশ করেছে তারা একই পক্ষ।




উল্লেখ্য, ফেনীর এই আলোচিত নেতাকে বুধবার আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করার খবর আসে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার এ ধরনের খবর জানা নেই। খবর কোথা থেকে এলো, তাও জানি না। কে দিলো এই খবর, তাও জানি না। শুধু এটুকু জানি, ফেনী জেলা সম্মেলন হবে। একটা তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ, আমীর হোসেন আমুর মতো সিনিয়র নেতাদের পাশে উপদেষ্টা পরিষদে ঠাঁই দেয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফেনীর একসময়ের আলোচিত এ সংসদ সদস্য। বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমাকে উপদেষ্টা কমিটিতে আনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমাকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য করা হয়েছে এজন্য আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।