সারাদেশঃ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ভোলায় নৃ’শংস হ’ত্যাকাণ্ড, আ’বরার হ’ত্যা, ক্যা’সিনোর উদ্ভব, দেশের স্বার্থবি’রোধী চু’ক্তি ও বৈধতার মোড়কে চু’রির মহোৎসব স’রকারের নতজানু রা’ষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ।




তিনি বলেন, এসব কারণে দেশ অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের ভারত সফরে যুগ যুগ ধরে অ’মীমাংসিত তিস্তা চুক্তি উপেক্ষা করে দেশের স্বার্থবি’রোধী যেসব চুক্তি করেছেন তা সচেতন নাগরিকরা মেনে নিতে পারে না।




আমরা এদেশে সমুদ্রের পানিতে ভেসে আসিনি। পু’লিশের গু’লির ভ’য় দেখিয়ে লাভ নেই। যদি ম’রতেই হয় বাঘের মতো হুং’কার দিয়ে ম’রব।বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল নগর ভবন সংলগ্ন ফজলুল হক এভিনিউ চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল মহানগরের সদস্য সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।




চরমোনাই পীর রেজাউল করীম বলেন, দেশে এখন সত্য কথা বলার পরিবেশ নেই। সরকার ফে’রাউনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। জনগণের টাকায় কেনা বুলেট জনগণের বুকে বিদ্ধ করছে স’রকারের পু’লিশ বাহিনী। এটা ব’রদাশত করা হবে না।




আমার মৃ’ত্যু কীভাবে হবে তা জন্মের সময় লেখা হয়েছে। বু’লেটের ভ’য় দেখালেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে সরে যাব না আমরা। ধর্ম নিয়ে ক’টূক্তিকারীদের মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস করার আন্দোলনে আমি ও আমার কর্মীরা মৃ’ত্যুর জন্য প্রস্তুত।




ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল মহানগরের সদস্য সম্মেলনে জোহরের নামাজের পর থেকে আসতে থাকেন কর্মীরা। এতে সাধারণ মানুষও অংশ নেয়। তাদের উপস্থিতিতে সদস্য সম্মেলন জনসভায় পরিণত হয়।




সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও বরিশাল মহানগর সভাপতি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বরিশাল সিটি মেয়রের সমালোচনা করে বলেন, মেয়র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করেছেন, টিউবওয়েল বসাতেও টাকা নিচ্ছেন। খেটে খাওয়া অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে বহুদিন ধরে টালবাহানা করছেন।




সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাস’চিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ। তিনি বলেন, বুয়েট ছাত্র আ’বরার ফাহাদকে নি’র্মমভাবে পি’টিয়ে হ’ত্যা করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ন’ষ্ট করার মাধ্যমে মানুষের বাকস্বাধীনতা হ’রণ করেছে ছাত্রলীগ। তারা আ’বরার হ’ত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানচিত্রকে হ’ত্যা করেছে।




আমরা মনে করি এর সঙ্গে উ’গ্রবা’দী সংগঠন ই’সকন সম্পৃক্ত। একই সঙ্গে ভোলায় হ’ত্যাকাণ্ডের নি’র্দেশদাতাদের সঙ্গে ওই সংগঠনের সম্পৃক্ততা আছে। সুতরাং বাংলাদেশে ই’সকনের সব প্রকার কার্যক্রম ব’ন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।




বরিশাল মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়া হামিদীর সঞ্চালনায় সদস্য সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, জামিয়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুব বি’ষয়ক সম্পাদক মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের প্রমুখ।