বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলছেন, সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞায় আমিও ব্যথিত। এরচেয়ে বেশি ব্যথিত হওয়ার কিছু হতে পারে, তা আমার জানা নেই।




মঙ্গলবার রাতে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি সভাপতি সাংবাদিকদের আরও বলেন, সাকিবের মতো খেলোয়াড় আমরা পাবো কিনা জানি না। সাকিব খেলতে না পারার মতো হতাশ আর কেউ হতে পারে না।




জুয়াড়িদের কাছ থেকে তিনবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পরও তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) না জানানোর অপরাধে সাকিবকে ২ বছর নিষিদ্ধ করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।




কিন্তু ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া সাকিবের ওপর সন্তুষ্ট আইসিসি। নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় আইসিসির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার শর্তে সাকিবের শাস্তি এক বছর স্থগিত করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।




সাকিব আল হাসান বলেন, আইসিসি ও অ্যান্টি করাপশন ইউনিট (এসিইউ) টিমের শিক্ষা কর্মসূচিতে সমর্থন দিতে তাদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি। আমি যে ভুল করেছি, তরুণ খেলোয়াড় যাতে সেটা না করে, সেটাই নিশ্চিত করতে চাই।




সাকিবের কারণে বিসিবির ক্ষতি ১০০ কোটি টাকা, দাবি পাপনের
সাকিব আল হাসানের কারণে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। ক্রিকেটারদের ধর্মঘট চলাকালীন গ্রামীণফোনের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি। মূলত এ কারণেই লোকসান গুনতে হচ্ছে বোর্ডকে। খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এ দাবি করেছেন।




তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে, খেলোয়াড়রা আলাদা চুক্তি করলে বোর্ড স্পন্সরশিপ পায় না। তাই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কোনো ক্রিকেটার টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না। অন্য কোথাও চুক্তি করলে সেটাও বোর্ডকে জানাতে হবে। আর চুক্তি করতে না দেয়া হলে খেলোয়াড়দের ক্ষতিপূরণও দেয়া হয়।এছাড়া কোম্পানিগুলোকেও বলে দেয়া হয়েছে কারও সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না।




তিনি বলেন, আমরা আগামী বছর দলের স্পন্সরশিপ বিক্রি করব। আমরা চেয়েছিলাম, তাতে অংশ নিক টেলিকম কোম্পানিগুলো। এখন তো তারা আসবে না। কারণ, এরই মধ্যে সাকিবের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছে একটি কোম্পানি। এতে সে ২/৩ কোটি টাকা পাবে। অন্যদিকে বোর্ড কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা হারালো।




এতে অন্য খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে পাপন বলেন, এটা সাকিব আইনগতভাবে পারে না। তার সঙ্গে চুক্তিতে পরিষ্কার লেখা আছে, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না সে। এজন্য জবাব চেয়ে তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাতে খেপে গেছেন এক বোর্ড পরিচালক। উনি বলেন- এটা কেন করলেন? করা ঠিক হলো? তো কি করব, সাকিবকে ছেড়ে দেব?




২ বছর আগে চিহ্নিত জুয়াড়ির কাছ থেকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। সেটি গ্রহণ না করলেও চেপে যান তিনি। সেই অপরাধে ১৮ মাস আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।তিনি বলেন, সাকিব যদি ১০০ কোটি টাকা পেতো তাও একরকম ছিল। সে তো পেয়েছে মাত্র ২/৩ কোটি। আর আমাদের এত টাকা লোকসান করে দিল? এটা হতে পারে না।