এই প্রথম ভারতের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সফরে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেখানে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি এবং দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে টাইগাররা। ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি মাঠে গড়াবে আগামী ৩ নভেম্বর।




নি’ষেধাজ্ঞার কারণে ভারত সফরসহ একটা লম্বা সময়ের জন্য সাকিবকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। এ বিষয়ে দলের অন্যতম ওপেনার লিটন দাস বলেছেন, ‘আমরা এই সিরিজ শুরুর অপেক্ষায় আছি, কারণ ক্রিকেটে যেকোনো কিছু হতে পারে। এর আগেও ইনজুরির কারণে সাকিব এশিয়া কাপে খেলতে পারেনি, তাই আমি মনে করি এতে কোনো সমস্যা হবে না।’




লিটন দাস আরও বলেন, সাকিব বাংলাদেশ দলের সেরা খেলোয়াড় এবং দল অবশ্যই তাকে মিস করবে।দেশের ক্রিকেট সমর্থকসহ অনেক ক্রীড়া বিশ্লেষকেই মনে করছেন, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের অনুপস্থিতি ভারতের মতো পরাক্রমশালী দলে বিপক্ষে ভালোই টের পাবে বাংলাদেশ দল।




কিন্তু এ বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন টাইগার ওপেনার লিটন দাস। তিনি মনে করেন, সাকিব ছাড়া রোহিত শর্মাদের হারানো সম্ভব।তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে আসার আগে আমাদের প্রস্তুতিটা বেশ চমৎকার হয়েছে।




এ সফরকে সামনে রেখে অনুশীলন ক্যাম্পটি পুরোদমে হয়েছে। শুধু তাই নয়, এখানে (ভারতে) এসেও অনুশীলন করেছি। আমার মনে হয় নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কোনো অসুবিধা হবে না আমাদের। ’




দলের নতুন কম্বিনেশন আর লক্ষ্য নিয়ে লিটন বলেন, ‘আমাদের দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় নতুন। সবাই এই তরুণদের স্বাভাবিক খেলা দেখার অপেক্ষায় আছে। আমাদের মনোযোগ আপাতত টি-টোয়েন্টি সিরিজকে ঘিরে এবং আমরা এখনও দিবারাত্রির টেস্ট নিয়ে ভাবছি না।




‘সাকিবের অভাব পূরণ করার মতো নয়’- টাইগার কোচ
‘নিষে’ধাজ্ঞায় ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি আর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে পারছেন না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। টাইগার কোচ রাসেল ডমিঙ্গো সাকিবের অনুপস্থিতিতে ভেঙে না পড়লেও জানিয়েছেন, সাকিব আল হাসান এমনই একজন খেলোয়াড় যার অভাব পূরণ করার মতো নয়।




দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আগামী ৩ নভেম্বর তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে ডমিঙ্গোর শিষ্যরা। তার আগে অনুশীলনে ব্যস্ত মুশফিক, মোস্তাফিজ, লিটন দাসরা। এরই মধ্যে ভারতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন হেড কোচ ডমিঙ্গো।বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে খুব বেশি কাজ করার সুযোগ পাননি ডমিঙ্গো। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাকে আসলে ব্যক্তিগতভাবে চেনার সুযোগ হয়নি আমার। খুব বেশি কাজ করারও সুযোগ পাইনি আমি। কিন্তু খেলোয়াড়রা তাকে বেশ সম্মান করে, মান্য করে।




সেখানে সাকিব সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘সে বাংলাদেশের অনেক বড় একজন খেলোয়াড় এবং অনেক খেলোয়াড়ের ভালো বন্ধু। সুতরাং তার না থাকাটা অনেক খেলোয়াড়ের উপরই প্রভাব ফেলবে। অবশ্যই সে একটি ভুল করেছে এবং সেটার মাশুল দিচ্ছে। তার নিষে’ধাজ্ঞায় দলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো উপায় নেই। অবশ্যই তার অনুপস্থিতি দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে। তবে আমাদের এই সিরিজ ও বিশ্বকাপে মনোযোগী হতে হবে।’




সাকিব নেই মানে এমন একজন ব্যাটসম্যান নেই যার ঝুলিতে ১১ হাজার আন্তর্জাতিক রান রয়েছে। এমন একজন বোলার নেই তার ‍ঝুলিতে তিন ফরম্যাটে ৫০০ উইকেট রয়েছে। তার মতো খেলোয়াড়ের অভাব পূরণ করা সহজ ব্যাপার নয়। বিষয়টি কোচও জানেন, ‘সে প্রায়শই ৩ নম্বরে ব্যাট করে। বোলিংটাও শুরু করে সে। প্রত্যেক ম্যাচেই চার ওভার বল করে। পাশাপাশি সে একজন প্রথম সারির ব্যাটসম্যান।