বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের কুলখানি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাদ জুমা রায়ডাঙ্গা জামে মসজিদে কুলখানির আয়োজন করে আবরারের পরিবার।
রায়ডাঙ্গাবাসীসহ সর্বস্তরের মানুষ কুলখানিতে উপস্থিত হলে মসজিদের বাইরে চলে আসে এ আয়োজন। কুলখানিতে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা রেজাউল করীম।




কুলখানি শেষে আবরারের দাদা আবদুল গফুর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মসজিদের সামনে আবরারের কবরের কাছে যান। কবর ছুঁয়ে চারপাশ ঘোরেন আর বলতে থাকেন ‘ভাই, ও ভাই তুই কেমন আছিস।এরপর তিনি হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলতে থাকেন ‘আ-আ- আমার নাতি রাব্বিকে (আবরার ফাহাদের পারিবারিক নাম) বাইরি (পিটিয়ে) মাইরি ফেলিচে বুইচেন, কি কষ্টটা না পাইচে…, অসুকি (অসুখে) যদি মইরি যায় তালি স্বাভাবিক, কিন্তু একটা লোককে যদি বাইরি মারে তালি কি কষ্টই না হয়; আপনেরা কন? আল্লা জিন (যেন) তার আত্মাকে জান্নাতবাসী করি দ্যাই।’




কুলখানি শেষে আবরারের কবর জিয়ারতে বাবা বরকতউল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, দাদা আবদুল গফুর, ৫ চাচাসহ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ বলেন, আমার ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন। সে যেন জান্নাতবাসী হতে পারে। আমার ছেলে কোনোদিন কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার তো দূরের কথা, জোরেও কথা বলেনি।




নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করত। তার এক প্রাইভেট শিক্ষকের সঙ্গে সে নামাজ ও তাবলিগে মনোযোগী হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবরার ফাহাদের গ্রাম রায়ডাঙ্গা একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।




এই গ্রামে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত দু-চারটি বাড়ির মধ্যে একটি আবরারের দাদা আবদুল গফুরের বাড়ি। বঙ্গবন্ধুর সহযোগী কুমারখালীর সাবেক এমপি মরহুম গোলাম কিবরিয়া এ বাড়িতে অনেকবার মিটিং করেছেন।




প্রিয় দল আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠনের নেতাদের হাতে তার প্রিয় নাতিকে হারিয়ে একেবারে ভেঙে পড়েছেন আবদুল গফুর।বিপদে আপদে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভরসা ছিল এই বাড়ি। সেই আবদুল গফুর এখন বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন। ঠিকমতো হাঁটতে ও কথা বলতে পারেন না তিনি।