জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দু’র্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার জন্য যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত ‘দু’র্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ মঞ্চের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন।




গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ার করেছেন, দু’র্নীতির অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে, মিথ্যা অভিযোগ তুললে অভিযোগকারীদের শাস্তি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘উপাচার্যের দু’র্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে প্রাথমিক প্রমাণ সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।




বিশেষ করে টাকা ভাগবাটোয়ারায় যারা যুক্ত ছিলেন, গণমাধ্যমের কাছে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক যেসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অর্থ কেলেঙ্কারির সংবাদ প্রকাশ করেছে, সেগুলো প্রাথমিক তদন্তের জন্য যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি।’ সরকার এই প্রমাণগুলো আমলে নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় বিস্ময় প্রকাশ করে অধ্যাপক রায়হান রাইন আরও বলেন, ‘তথ্য-প্রমাণগুলো আমলে নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কার্যকরী তদন্ত হলে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দু’র্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হবে।




এর মাধ্যমে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম উপাচার্য পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন, সেটিও প্রমাণিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনের শুরু থেকেই আমরা তদন্ত চেয়েছি। কিন্তু গত ১২ সেপ্টেম্বর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনায় উপাচার্য তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কেননা তদন্ত করতে হলে তাকে সরে যেতে হতো।




তদন্ত না করার সিদ্ধান্তে আমাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৪৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজের ই-টেন্ডার না করে সনাতন পদ্ধতির টেন্ডার, টেন্ডার শিডিউল ছিনতাই, ছিনতাইয়ের বিচার না করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপাচার্যের দু’র্নীতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অধ্যাপক রায়হান রাইন। তিনি আরও জানান, ‘অভিযোগগুলো লিখিত রূপে তৈরি করা হচ্ছে।




জাবি ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রী
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে তোলা দু’র্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে দুর্নী’তির অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন, তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। যদি তারা তা প্রমাণ করতে পারেন, তবে উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায়, অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হতাহত সাংবাদিকদের পরিবারকে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো রকম আইনগত ভিত্তি ছাড়া আন্দোলনের নামে ক্লাস বন্ধ, ভিসিদের বাসভবন ও কার্যালয়ে হামলা বরদাস্ত করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে?উন্নয়ন কাজ শুরু হলেই আন্দোলন কেন এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সব থেকে যেটা লক্ষ্যণীয়, যখন উন্নয়নের কোনো কাজ দেওয়া হয়, তখনই এই আন্দোলন যেন আরও ঘনীভূত হয়ে ওঠে। কেন?




তাহলে যারা আন্দোলন করেন তাদেরও ভাগ-বাটোয়ারার ব্যাপার আছে, নাকি ভাগে কম পড়ছে, আমার প্রশ্ন সেখানেও আছে। তিনি বলেন, আমি জানি, আমি খুব রূঢ় হচ্ছি, কিন্তু বাস্তবে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, এটা কী ধরনের কথা? হয়তো প্রজেক্ট পাস হয়ে গেছে টাকাও ছাড় হয়নি। তার আগেই দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন, কী কারণে? কার ভাগে কম পড়ল যে এই আন্দোলন? আন্দোলনে থাকা শিক্ষকদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এভাবে ছেলেমেয়েদের জীবন নষ্ট করার কী অধিকার আছে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলছে, যদি অভিযোগ থাকে বলুক আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।




কিন্তু যেখানে আমরা একজনকে ভিসি বানালাম তার বিরুদ্ধে আন্দোলন। আর এর মধ্যে শিক্ষকও জড়িত। শিক্ষকরা ছাত্রদের ব্যবহার করেন। এটা কোন ধরনের কথা? এখানে কি কোনো ডিসিপ্লিন থাকবে না? কোনো আইন থাকবে না? আইন প্রয়োগ হবে না? কেউ কেউ এদের উসকানি দেয়। এ বিষয়গুলো একটু দেখা দরকার আপনাদের। আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের পরও বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বুয়েটের সমস্যাটা কি সেটা তো বুঝতে পারছি না। আমরা তো সবই করলাম।




তারপরও এই আন্দোলন কীসের জন্য? বুয়েটে যে আবরার হ’ত্যার ঘটনা ঘটল, আমরা সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যবস্থা নিয়েছি। সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্ররা আন্দোলনের আগে যখনই খবর এসেছে তখনই কিন্তু আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। এখন তাহলে আন্দোলন কীসের জন্য, আমার সেটাই প্রশ্ন। দিনের পর দিন ক্লাস করতে দেবে না, নিজেরা ক্লাস করবে না। তাহলে তারা ইউনিভার্সিটিতে থাকবে কেন? এ ধরনের কাজ যারা করবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের এক্সপেল করে দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, আজ যারা ছাত্র তারা কাল থাকবে না। তাহলে ভাঙচুর কেন? যাদের জন্য কাজ, তারাই যদি ভাঙে তাহলে আমরা কাজ করব কীভাবে? এগুলো সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। এসবের পেছনে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ আছে। উন্নয়ন অনেকের কাছে পছন্দ হচ্ছে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধের বিচার এসব ভালো লাগছে না।