ধূমকেতুর মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাব ঘটে মোস্তাফিজুর রহমানের। দুর্দান্ত গতি, সর্পিল সুইং, ভয়ংকর বাউন্সার, মরণঘাতি স্লোয়ার আর বিষাক্ত কাটার-ইয়র্কারে ক্রিকেট বিশ্ব বুঁদ রাখেন তিনি।’কাটার মাস্টার’নামে বিশ্ব ক্রিকেটে পরিচিতি পেয়ে যান মোস্তাফিজ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়’ সাকিব আল হাসানের পাশাপাশি তার নামটাও চাউর হয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।




দ্য ফিজ নামে বিশ্ব গণমাধ্যমে খবরের শিরোনামে আসেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে তার বোলিংয়ের ধার। ব্যাটসম্যানদের জন্য আর আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারছেন না বোলিং বিস্ময়।উল্কার গতিতে ক্যারিয়ার শুরু করেন মোস্তাফিজ। বিশ্বের নামীদামি লিগে সুযোগ পেতে থাকেন তিনি। সেই সূত্রে খেলতে যান ইংলিশ কাউন্টিতে। সেখানে ইনজুরিতে পড়ে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিটকে পড়েন ফিজ। এরপর আর স্বরূপে ফিরতে পারেননি তিনি।




গেল ১ বছরে ১৯ ওয়ানডেতে ৩৯ উইকেট শিকার করেছেন মোস্তাফিজ। যার অধিকাংশই বাংলাদেশের কোনো কাজে আসেনি। মাশরাফির অনুপস্থিতিতে তাকেই ভাবা হচ্ছিল টাইগারদের প্রধান স্ট্রাইক বোলার। তবে সেটা হতে পারছেন না তিনি। প্রয়োজনের সময় উইকেট এনে দিতে পারছেন না কাটার মাস্টার। ক্যারিয়ারের শুরুতে ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ইকনোমি ছিল ৫.২৪, সেখানে গেল ১২ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৩৫!




টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এ পরিসংখ্যান আরও করুণ। সবশেষ ১২ মাসে ৯ ম্যাচে ৯ উইকেট ঝুলিতে ভরেছেন মোস্তাফিজ। চলমান ভারত সফরে গেল ২ ম্যাচে কোনো উইকেট পাননি তিনি। সেখানে রান দিয়েছেন খোলা হাতে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ক্যারিয়ারের শুরুতে তার ইকনোমি ছিল ৭.৭৯। সেখানে গত ১২ মাসে ইকনোমি হয়েছে ৯.২০।




টেস্ট ক্রিকেটে শুরু থেকেই অনিয়মিত মোস্তাফিজ। চলতি বছর মাত্র ১টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। গেল মার্চে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচে কেবল ১ উইকেট পান ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার।দলের ভেতরের অভিযোগ, নিজেকে সময়ের সঙ্গে আপডেট করছেন না তিনি। বোলিংয়ে নতুনত্ব আনছেন না। নতুন ফর্মুলা আ্যাপ্লাই করছেন না। এজন্যই নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন দেশসেরা পেস অস্ত্র।




চোট থেকে ফেরার পর মোস্তাফিজের বোলিংয়ের গতিও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। আগের মতো বৈচিত্রময় বোলিংও করতে পারছেন না তিনি। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, কী হয়েছে বাঁহাতি পেসারের।