বিদেশি কোনো ফ্রাঞ্চাইজি লিগে খেলার অনুমতি পান না ভারতীয় ক্রিকেটাররা। তবে এবার বিপিএলে তাদের পেতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এনিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইস সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে কথা বলবেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।




দিল্লিতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টি-২০ তে টাইগারদের জয় মাঠে বসেই দেখেছিলেন বিসিবি সভাপতি। তারপর তিনি দেশে ফিরে আসেন। নাগপুরে শেষ ম্যাচে মাঠে থাকবে। ভারতে সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে আলাপ করবেন তিনি।




‘গাঙ্গুলির সাথে কয়েকটা ব্যাপারে, কিছু খেলোয়াড় নিয়ে আলাপ আছে। ওরা তো ভারতীয় খেলোয়াড়দের বাইরে খেলতে দেয় না, তাই বিপিএলে কিছু খেলোয়াড়কে আনা যায় কিনা সে ব্যাপারে আলাপ করবো। যদি আনা যায় তাহলে খুব ভালো হবে আমাদের জন্য। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে কোন কোন খেলোয়াড় আনা যায়- এটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’




তিনি বলেন, একটা টুর্নামেন্ট চলার কারণে পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা আসতে পারবে না। তাই আমাদের নির্ভর করতে হবে, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়দের ওপর। আফগানিস্তান থেকে দুই একজন স্পিনার নিতে পারি। কিন্তু দলটা সাজানোর জন্য ভারতীয়দেরও দরকার।’




বাংলাদেশের ইতিহাস না ভারতের মানরক্ষা?
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দাপুটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। তবে পরের ম্যাচে যাচ্ছেতাইভাবে ভারতের কাছে হেরে যায় তারা। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রফি নির্ধারণী। এতে যারা জিতবে তারাই শিরোপায় চুমু আঁকবে।রোববার নাগপুরে গড়াবে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি। দুই দলের ফাইনালি লড়াই শুরু হবে যথারীতি বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস ও গাজী টিভি।




এটি জিতে ইতিহাস গড়তে চায় বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি জিততে পারলে পঞ্চম দল হিসেবে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়বেন টাইগাররা। এর আগে তাদের ডেরায় এ সংস্করণে সিরিজ জেতে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলগুলো।




এ ম্যাচে একাদশে পরিবর্তন আনতে পারে বাংলাদেশ। পেসার আল-আমিন হোসেনের জায়গায় ঢুকতে পারেন স্পিনার আরাফাত সানি। এ সিরিজে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি।বাংলাদেশের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। সেখানে ভারতের লড়াইটা হবে মানরক্ষার। তথাকথিত ‘ভাঙাচোরা’ দলের কাছে হেরে গেলে লজ্জা বরণ করতে হবে তাদের। সঙ্গত কারণে ম্যাচটিকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না মেন ইন ব্লুরা।




হাইভোল্টেজ ম্যাচ জিতে সিরিজ ঘরে রাখতে চান তারা। এজন্য একাদশে পরিবর্তন আনতে পারে ভারতও।গেল দুই ম্যাচে দু’হাত খুলে রান দেন বাঁহাতি পেসার খলিল আহমেদ। তার পরিবর্তে শার্দুল ঠাকুরকে দলে নেয়া হতে পারে।




তবে এসব আমলে নিতে চান না মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা। ইতিহাস গড়তে সর্বোচ্চটা ঢেলে দিতে চান তারা। অন্যদিকে সর্বস্ব উজাড় করে খেলতে চান রোহিত-ধাওয়ানরা। ফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে না ভারতের মানরক্ষা হয়।ইতিহাস, রেকর্ড, পরিসংখ্যানও ভারতের পক্ষে কথা বলছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০ টি-টোয়েন্টি খেলেছে তারা। ৯ ম্যাচেই জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। ১টিতে জয় পেয়েছেন টাইগাররা।