কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মসজিদে নামাজরত মুয়াজ্জিনের ওপর স’ন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার গভীর রাতে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মো: এমদাদুল ইসলামের (৬০) ওপর এ হা’মলার ঘটনা ঘটে।হা’মলার সময় মুয়াজ্জিন মসজিদের ভেতরে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়রত অবস্থায় ছিলেন। আ’হত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।




মুয়াজ্জিন মো: এমদাদুল ইসলাম জানান, ‘ফজরের আজানের কিছুটা সময় বাকি থাকায় আমি তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়াই। এমন সময় পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে আ’ঘাত করা হয়। এ সময় চিৎকার করলে কালো জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তি পালিয়ে যায়। তবে ওই ব্যক্তি এক জোড়া স্যান্ডেল ফেলে গেছেন।’




স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট জামে মসজিদে ৫০ বছর ধরে মুয়াজ্জিন হিসেবে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছেন এমদাদুল ইসলাম।ওসমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জানান, আ’হত মুয়াজ্জিন এমদাদুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সৎ মানুষ। সারাজীবন মসজিদ নিয়ে পড়ে আছেন তিনি। তার ওপর হা’মলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।




উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কামরুজ্জামান সোহেল জানান, মুয়াজ্জিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার একটি ক্ষতে প্রায় ১৭টি সেলাই দেয়া হয়েছে।
খোকসা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান জানান, সোমবার সকালে খবর পেয়ে ওই এলাকায় যাই। আ’হত মুয়াজ্জিনকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।




১০ বছরে ছয়বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বিগত ১০ বছরে ৬ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এরমধ্যে ২০১১ সালে দুই বার এবং ২০১২, ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে একবার করে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পায়। বিদ্যুতের দাম কমানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই।সোমবার জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।




সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন সময়ে দৈনিক বিদ্যুতের গড় চাহিদা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট হতে ১৩ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বর্তমানে মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট। এ উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।




বিভিন্ন মেয়াদে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মোট ১৫ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৯ হতে ২০২৭ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। এছাড়া ৩ হাজার ২৭৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের চুক্তি সাক্ষর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০২১ হতে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।




অন্যদিকে ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০২১ সাল হতে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। এছাড়াও ১৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। এনিয়ে মোট ৮৭টি কেন্দ্র হতে ৩৯ হাজার ৮৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।




এছাড়াও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ভারতের ২টি স্থান থেকে ২ হাজার ৮৩৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে, যা ২০২১ সাল হতে ২০২২ সালের মধ্যে চালু হবে। বর্তমানে (২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ৬ দশমিক ০১ টাকা।

একই প্রশ্নকর্তার আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে ৮৭টি নতুন কেন্দ্র হতে ৩৯ হাজার ৮৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।