দেশের জনপ্রিয় ইসালামি বক্তা ও টিভি উপস্থাপক মাওলানা তারেক মনোয়ারসহ তিন বক্তার ওয়াজ নিষিদ্ধ করেছে কুমিল্লার জেলা প্রশাসন।ওয়াজ-মাহফিলে ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে কুমিল্লায় তারা ওয়াজ করতে পারবেন না বলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।




গত ১১ নভেম্বর (সোমবার) কুমিল্লা জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানান।নিষিদ্ধের তালিকায় তারেক মনোয়ার ছাড়া আরো দুই বক্তা হলেন – আবদুর রাজ্জাক এবং জসিম উদ্দিন।




জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ‘উল্লেখিত ওয়াজকারী বক্তারা দীর্ঘ বছর ধরে ওয়াজের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি করে আসছে। তাদের ওয়াজে ইসলামের আদর্শ দেশ প্রেমের চেয়ে উগ্রবাদ প্রকাশ পায়, তাই তাদের ওয়াজ কুমিল্লায় নিষিদ্ধ করা হলো।’




তিনি আরো বলেন, কিছু বক্তা মাফফিলে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রাখেন। বিশৃঙ্খলা ছড়াতে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেন। এ ধরনের বক্তাদের মাহফিলে কিছুতেই দাওয়াত দেয়া যাবে না। ইতিমধ্যেই আমরা এমন তিনজনের তালিকা করেছি। এ তিনজনকে কোনো মাহফিলে ওয়াজ করতে দাওয়াত দেয়া যাবে না, অন্ততপক্ষে কুমিল্লায় তো নয়ই। কুমিল্লায় কিছুতেই শান্তি বিনষ্ট হতে দেয়া যাবে না।এ বিষয়ে আমরা বেশ সতর্ক।




বিভ্রান্তি ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন এমন বক্তাদের চিহ্নিত করে এ তালিকা আরো বড় হবে। সভায় উপস্থিত জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ আমাদের দেশের মানুষ সহজ-সরল ্ও অত্যান্ত ধর্মপ্রাণ। তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে কোনো কোনো বক্তা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন এবং শান্তিময় পরিবেশ নষ্ট করেন।




এসব ওয়াজকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তাই যথাযথ অনুমতি নিয়ে ওয়াজ-মাহফিলের আয়োজন করতে হবে। যেই স্থানে মাহফিল আয়োজন করা হবে সেখানে যেন অবশ্যই সাউন্ড সিস্টেমটি প্যান্ডেলের ভেতরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ’




তিনি আরো বলেন, ‘জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি ছিলেন ধর্ম অনুরাগী এবং তিনি আলেমদের সম্মান করতেন। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ধর্মপ্রাণ। তার উদ্যোগে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। ’




এদিকে জেলা প্রশাসক মো.আবুল ফজল মীর বলেন, ‘২০২০ সাল হবে মুজিব বর্ষ। আর ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও সরকারি দফতরগুলো নিজ উদ্যেগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।’




কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়ুয়া জানান, মুজিব বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ডে আলোকসজ্জা করবে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু সব আয়োজন সম্পন্ন করছেন বলে জানান তিনি।