বর্তমান বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে দিশেহারা হয়ে গেছেন সাধারণ মানুষ। সর্বত্রই এখন পেঁয়াজের ঝাঁজ নিয়ে চলছে সরকারের আলোচনা-সমালোচনা। সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলেছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।নুর বলেন, পেঁয়াজের বাজার লাগামহীন। গ্যাসের দাম বাড়ে, বিদ্যুতের দাম বাড়ে! আমরা দেখি আর হায়-হুতাশ করি।




তিনি আরও বলেন, ৪০ টাকার পেঁয়াজ এখন ১৮০ টাকা। ৫০০ টাকাও হতে পারে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এখানে পেঁয়াজের দাম বা চালের দাম যদি বাড়ে, সেক্ষেত্রে সরকারের যদি উদাহারণ দেয়া হয়, তবে সরকার যদি কমাতে পারে তবে কমাবে। এখানে সাধারণ জনগণের কিছু করার নেই। বিশ্ববাজারে তেলের দাম যদি কমে তবে বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়ে।




ভারতে আমার দেখেছি যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যদি বাড়ে, তবে সাধারণ জনগন রাস্তায় নামে প্রতিবাদ করে। কিন্তু আমাদের এখানে এরকম প্রতিবাদ দেখিনা। সেখানে তো সরকার চাপিয়ে দেবেই। সরকার যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারে তবে তাদের তো আর জবাবদিহি করা লাগছে না। সেক্ষেত্রে সরকার কোন চাপ মনে করে না।




কারণ যেখানে দুর্গাপূজার সময় সরকার ভারতে ৫০০ টন ইলিশ উপহার হিসেবে পাঠায়। যেখানে আমরা বেশি দামের কারণে ইলিশ খেতে পারিনা। আর পরের দিনই বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। তারা আমাদের অকৃত্তিম বন্ধু। আমরা নতজানু বন্ধুদের কাছে শুকরিয়া আদায় করি।




চড় দিলেও চড় খেয়ে হজম করি আমরা। আমরা বলতে পারিনা যে, কেন তোমরা নির্দিষ্ট টাইম ছাড়া আগে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলা। আমরা বলি যে, তরকারিতে পেঁয়াজ খাব না। এই হচ্ছে আমাদের নতজানু পররাষ্ট্র নীতি। বন্ধুদের প্রতি এই হচ্ছে আমাদের নতজানু নীতি। যেখানে আমরা প্রতিবাদ করতে পারিনা।




এক পিস পেঁয়াজের দাম ৪৫ টাকা!
পেঁয়াজের দাম ঘণ্টায় ঘণ্টায় বেড়েই চলেছে। দুদিন আগে যে পেঁয়াজ ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই পেঁয়াজ এখন ২১০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।সারা দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। অনেক স্থানে এক রাতেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে ৮০ টাকা। কোথাও কোথাও একটি পেঁয়াজ ৪৫ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে।




লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম মাত্র এক রাতের ব্যবধানে ৮০ টাকা বেড়ে গেছে।বুধবার সন্ধ্যায়ও ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। সেই পেঁয়াজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাজারে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে! আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি ১৯০ টাকা।




বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর, রায়পুরসহ জেলার কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে জানা যায়, গত বুধবার পর্যন্ত পাইকারি আড়তগুলোতে দেশি পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার দাম বেড়ে ১৯০ টাকা হয়েছে। সকালে খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারি আড়তগুলো থেকে এর রাতে মণ প্রতি ৪০০ টাকা বেশি ধরে কিনে নিয়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি করছেন ২০০ থেকে ২১০ টাকায়।




লক্ষ্মীপুরের একাধিক হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিম্ন আয়ের মানুষগুলো এক পিস পেঁয়াজ কিনছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। সেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকায়।
তেমনই একটি মুদি দোকানে ২০০ টাকা কেজি হারে ভারতীয় একটি পেঁয়াজ ওজন করে দেখা যায় তার মূল্য ৪৫ টাকা। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে।এক রাতে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কেউ কেউ ২৫০ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত পেঁয়াজ ক্রয় করছেন। আবার কেউ কেউ মাত্র এক পিস পেঁয়াজ কিনতেও দেখা গেছে।




রায়পুর শহরের রিকশা চালক মনির হোসেন জানান, পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে পৌর শহরের হল রোড থেকে ২০০ টাকা দিয়ে ৪টি পেঁয়াজ কিনেছেন। যার ওজন এক কেজি থেকে একটু কম।এ সময় আরও একজন শ্রমিক ২২৪ গ্রাম ওজনের এক পিস পেঁয়াজ ৪৫ টাকা দিয়ে কিনেছেন বলে তিনি জানান।রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী জানান, পেঁয়াজের দাম নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারগুলোতে মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এছাড়া যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারে পেঁয়াজের দাম ঘণ্টায় ঘণ্টায় বেড়েই চলেছে। মঙ্গলবার এক কেজি পেঁয়াজের মূল্য ছিল ১৪০ টাকা, বুধবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮০টাকায়। বৃহস্পতিবার সেই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ২২০ টাকায়।হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। মাত্র ২ দিনের ব্যবধানে ১৪০ টাকার পেঁয়াজ এখন ২০০ টাকা। বৃহস্পতিবার চুনারুঘাটের আড়তদাররা পাইকারি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। আর খুচরা বাজারে তা ২০০ টাকা।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে। সকাল থেকে বাজারে পেঁয়াজের কেজি ১৮০ টাকা। অথচ গত বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাটহাজারীর খুচরা ও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয় ১১০ টাকা দরে।ভোলার লালমোহনে পেঁয়াজের কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার লালমোহন বাজার ঘুরে এ দরে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। এতে ক্রেতাসাধারণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে দাম।